টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধ্বস ও নদীভাঙনে কক্সবাজারের রামু এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও সড়ক ও সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কৃষিজমি ও মৌসুমি ফলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এই দুর্যোগের মধ্যেও দুই উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত, মানবিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্যোগের শুরু থেকেই দুই উপজেলার প্রশাসন কেবল দাপ্তরিক দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং মাঠপর্যায়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রশাসনের দ্রুত তৎপরতায়
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে একাধিক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাইশারী ইউনিয়নের থুইলা অংপাড়ার গর্জন খালের ওপর নির্মিত একমাত্র সেতু ধসে পড়ায় শতাধিক পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সোনাইছড়ি, দোছড়ি, বাইশারী ও ঘুমধুম ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ এনামুন হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত মাঠে নেমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে। ব্র্যাকের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বাইশারী ইউনিয়নে ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সদর ইউনিয়নের ৪০টি পরিবারের মাঝেও শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মারমাপাড়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য এলাকাতেও সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যে ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলায়ও ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও বসতঘরের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সতর্ক করা এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্যোগের সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঠে উপস্থিতি মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ শোনা, তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের মানবিক উপস্থিতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বর্ষার চলমান দুর্যোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমও একই গতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা