ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নোওয়াপাড়া এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নোওয়াপাড়া ও বাঁকাইল এলাকার যুবকদের দাবি, তারা ইয়াবার এক ক্রেতাকে হাতেনাতে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বিক্রেতাকেও আটক করেন। তবে পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাউকেই থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই বিকেলে নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন যুবক খেলাধুলা করছিলেন। এ সময় সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে তারা পারভেজ (পিতা: সাইফার), বাড়ি চরনোওয়াপাড়া, নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন। যুবকদের দাবি, তার কাছ থেকে ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।আটকের পর পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুবকেরা নোওয়াপাড়া কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে গিয়ে কাজী সোহাগ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। তাদের দাবি, তিনিই পারভেজের কাছে ইয়াবা বিক্রি করেছিলেন। পরে দুইজনকে একসঙ্গে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে এবং একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে এলাকার যুবকদের পক্ষ থেকে শাকিব ও আমির হামজা বলেন, "আমরা দুই গ্রামের অনেক যুবক সেখানে ছিলাম। পারভেজকে আটকের পর সে সোহাগের নাম ও অবস্থান জানায়। পরে আমরা সোহাগকে আটক করি। কিছুক্ষণ পর আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান (হাসিব) ঘটনাস্থলে এসে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যান। পরে জানতে পারি, তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।"ঘটনার বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান (হাসিব) বলেন, "ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি জনতা দুই ব্যক্তিকে মারধর করছে। আমি সবাইকে শান্ত করি এবং আলফাডাঙ্গা থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।"
অন্যদিকে, আটক দুই ব্যক্তির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যায়। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, পারভেজ ইয়াবা কেনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে কাজী সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পারভেজের কাছে কোনো ইয়াবা বিক্রি করেননি।পরদিন সকালে বিষয়টি জানতে এলাকার কয়েকজন যুবক আলফাডাঙ্গা থানায় গেলে, তাদের দাবি অনুযায়ী ওসি জানান অভিযুক্তদের কাউকেই থানায় আনা হয়নি।শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নোওয়াপাড়া দারোগাবাড়ি জামে মসজিদের সামনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা মাদকবিরোধী ভূমিকা রাখায় যুব সমাজের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে, যদি আটক ব্যক্তিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা মাদক নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক বার্তা দেবে বলে মন্তব্য করেন।এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফকির তাইজুল ইসলাম বলেন, "আমাকে হাসিব ভাই ফোন করেছিলেন। তিনি জানান, দুই ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা হচ্ছে। আমি আহত হলে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিই এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। পরদিন সকালে গ্রামের কয়েকজন যুবক থানায় এসে বিষয়টি জানতে চাইলে আমি তাদের বলেছি, থানায় কাউকে হস্তান্তর করা হয়নি।"
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না বা উদ্ধার হওয়া কথিত ইয়াবা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক || মোঃ সাহিদুর রহমান টেপা || সহযোগী সম্পাদক || নাজনীন সুলতানা || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক || নওয়াজিস তাহনুন চন্দন || সহকারী সম্পাদক || ডা. শরিফুল হক প্রিয়ম || প্রধান নির্বাহী সম্পাদক || এস এম. জহিরুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: টেপা কমপ্লেক্স: ১৬৯/ক, এস এস নজরুল ইসলাম সারণী পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০ || বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৪৮ বিজয় নগর (৩য় তলা) ঢাকা -১০০০ || যোগাযোগ: ই-মেইল: ghoshonanews2024@gmail.com
দৈনিক ষোষণা