বিউটি পালের নেতৃত্বে দেশে একটি বিপ্লব সূচনা হলো। সন্ত্রাস নয়,নোংরা মন নয়। গানে গানে মুখরিত হউক বাংলার মানুষ।মন আছে যার,মুখে সুর আছে তার।গান সুর মানুষের মন পরিস্কার পরিশুদ্ধ রাখে। সাংস্কৃতিক/ গান বিনোদন চাপটার ক্লোজ করার শক্তি বা ক্ষমতা কোনও মানব জাতির হাতে নেই। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই সুর হয়ে আসছে। নিবাভে কে! যারা আসবে নিবাতে তারাই নিবে যাবে। সুর প্রাকৃতিক ও অলৌকিক শক্তি।
একজন শিক্ষিকার গান ও আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।শিক্ষকতা একটি মহান পেশা,আর সংগীত একটি মহান শিল্প। এই দুই পরিচয় যখন একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে থাকে,তখন সেটি গর্বের বিষয় হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো অনেক সময় দেখা যায়,কোনো শিক্ষিকা গান গাইলে বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে তা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা বা নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো সময়ের দাবি। আমার সন্তানদের স্কুলের অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা ও গান করেন।আমরা তাদের সম্মান করি। গান শুধু বিনোদন নয়; এটি মানুষের মনন,সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। একজন শিক্ষিকা যদি সংগীতচর্চা করেন,তবে তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের কাছেও সৃজনশীলতা,নান্দনিকতা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারেন। শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু সম্মানিত শিক্ষক সংগীত,আবৃত্তি, নাটক ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা লালন শাহের সৃষ্টিগুলো আজও শিক্ষা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই একজন শিক্ষিকার কণ্ঠে গান শোনা তাঁর মর্যাদা কমায় না; বরং তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করে।আমাদের উচিত মানুষের প্রতিভাকে সম্মান করা,পেশার সংকীর্ণ গণ্ডিতে তাকে বিচার না করা। একজন শিক্ষিকা যদি শালীনতা,দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে সংগীতচর্চা করেন,তবে সেটি সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তাই বহন করে। কারণ সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশই পারে একটি মানবিক,উদার ও আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে।আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে একজন শিক্ষিকা তাঁর শ্রেণিকক্ষে যেমন সম্মানিত হবেন,তেমনি মঞ্চে তাঁর সুরেলা কণ্ঠের জন্যও সমানভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পাবেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক—এই সত্যকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই আমি একজন ছাত্র হয়ে শিক্ষকদের পাশে দাড়াচ্ছি। বিউটি পালের পাশে সচেতন জাতি। যারা গানের বিরোধিতা করে তারা মানুষ নয়,তাদের মন নোংরা তাই তাদের কাছে সব কিছুই নোংরা। সবাই মোল্লা হলে সমস্যা। গানে বিনোদনে গড়ে উঠুক আগামীর প্রজন্ম। শিক্ষকদের হাতেই গড়ে উঠুক প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ ছোট বড় সব শ্রেণির স্টুডেন্ট। শৈশব থেকেই বেড়ে উঠুক ভালো মন-মানসিকতা নিয়ে। উপযুক্ত বয়স সীমান্তে এসে পরিবর্তন ঘটে। মানুষের জীবনে।
আমাদের চারপাশের মানুষ গুলির দৃষ্টি ভঙ্গি বদলাতে হবে। তাহলে জীবনটাই বদলে যাবে।