1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
বাবার গড়া লটকন বাগানে বদলে গেছে ভাগ্য, সচ্ছলতার মুখ দেখেছে ছেলে মতিউরের পরিবার - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
ভরা মৌসুমেও মেঘনায় ইলিশের আকাল, সংকটে তজুমদ্দিনের হাজারো জেলের জীবিকা পানিবন্দি ৭০০ পরিবারের মাঝে হুইপ বকুলের রান্না করা খাবার বিতরণ বিআইডব্লিউটিসি অফিসার্স এসোসিয়েশনের নতুন প্রেসিডেন্ট মানসুরা আহমেদ এবং জেনারেল সেক্রেটারি রুবেলুজ্জামান প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রামগড় উপজেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ পাবনা জেলা পুলিশের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত নকল করতে না দেয়ায় ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক করা হয়েছে থানা হেফাজত হতে পলাতক আসামিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি ‎প্রযুক্তি উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জমে উঠল এনপিআইইউবির প্রজেক্ট ফেয়ার প্রেম মানতে না পারায় মেয়েকে লাঠির আঘাতে হত্যা

বাবার গড়া লটকন বাগানে বদলে গেছে ভাগ্য, সচ্ছলতার মুখ দেখেছে ছেলে মতিউরের পরিবার

reporter লুৎফর রহমান টুটুল
calendar প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ

একসময় সংসারের খরচ চালাতে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হতো মতিউর রহমানকে। কিন্তু শখের বশে পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে তোলা একটি লটকন বাগান আজ তার পরিবারে ফিরিয়ে এনেছে স্বচ্ছলতা। মৃত্যুর পরও বাবার হাতে লাগানো লটকন গাছই এখন পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান প্রায় আট বছর আগে নিজের ৩৩ শতাংশ পরিত্যক্ত জমিতে শতাধিক লটকনের চারা রোপণ করেন। প্রায় তিন বছর পর গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করে। সেই বাগানের লটকন বিক্রি করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে তার পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতিউর রহমান জীবদ্দশায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) চাকরি করতেন। সীমিত আয়ের কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো তাকে। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি গড়ে তোলেন লটকনের বাগান। প্রায় দুই বছর আগে তার মৃত্যু হলে পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। কিন্তু বাবার লাগানো গাছের বাম্পার ফলন সেই সংকট কাটিয়ে নতুন আশার আলো দেখায়।

বর্তমানে বাগানটির দেখভাল করছেন তার বড় ছেলে, কলেজপড়ুয়া লাম আলিফ। তিনি জানান, এ বছরও বাগানে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। প্রতিদিন পাকা লটকন বিক্রি করে ভালো আয় হচ্ছে। ফলে পরিবারে এখন আর অভাব-অনটন নেই। লটকন বিক্রির অর্থেই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে চলছে তাদের জীবনযাপন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মধুপুর উপজেলা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে লাউফুলা গ্রামের ছায়াঘেরা বাগানটিতে থোকায় থোকায় ঝুলছে সোনালি রঙের লটকন। ফলভর্তি গাছগুলোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

মতিউরের ছোট ভাই আবুল হোসেন বলেন,আমার ভাই যখন লটকনের চারা রোপণ করেছিলেন, তখন অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আজ সেই বাগানই তার পরিবারকে স্বাবলম্বী করেছে। ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি এখন ভালোভাবে চলছে।

তিনি আরও বলেন, বড় ছেলে লাম আলিফ মধুপুর কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছে এবং ছোট ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ভাই মারা গেলেও পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের উৎস রেখে গেছেন।

লাম আলিফ বলেন,বাবা প্রায় আট বছর আগে এই বাগান গড়ে তুলেছিলেন। তিন বছর ধরে আমরা ফলন পাচ্ছি। বাবার মৃত্যুর পর বাগানে এলে তার কথা খুব মনে পড়ে। তিনি নেই, কিন্তু আমাদের জন্য যে আয়ের ব্যবস্থা করে গেছেন, তা অত্যন্ত লাভজনক। এই বাগান না থাকলে হয়তো আমাদের জীবন অনেক কষ্টের হতো।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, লটকন গাছ দোআঁশ ও লাল মাটিতে ভালো জন্মে। ছায়াযুক্ত পরিবেশ এ ফল চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ফলে মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়ি ও উঁচু এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লটকন চাষ।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক রমজান আলী বলেন, জেলার লাল মাটির পাহাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলায় এর ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লটকন চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে লটকন চাষ ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ খুলে দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com