সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুরকচি বাজারে অবস্থিত সরকারি যাত্রী ছাউনি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের বিশ্রাম ও অপেক্ষার জন্য নির্মিত এই ছাউনির সামনে ও আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ পানের দোকান, ফলের দোকান, বিভিন্ন অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অনিয়ন্ত্রিত সিএনজি ও অটোরিকশা পার্কিংয়ের কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রী ছাউনির দুই পাশে ছোট ছোট দোকান বসিয়ে রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। দোকানগুলোর সামনে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী, বাক্স, ঝুড়ি ও মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার ফলে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ, নারী, শিশু ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রী ছাউনিটি বর্তমানে তার মূল উদ্দেশ্য হারিয়েছে। ছাউনির ভেতরে ও বাইরে ব্যবসায়িক মালামাল রাখার কারণে যাত্রীরা সেখানে বসতে বা আশ্রয় নিতে পারেন না। এমনকি অনেক সময় যাত্রী ছাউনির ভেতরেও অস্থায়ীভাবে দোকান বসানো হয়। ফলে প্রচণ্ড রোদ কিংবা বৃষ্টির সময় সাধারণ মানুষ আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় যুবক শাহীন বলেন গুরকচি বাজারের যাত্রী ছাউনির সামনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দোকানপাট বসানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। যাত্রী ছাউনির ভেতরে ও আশপাশে সবসময় মালামাল ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম রাখা থাকে। ফলে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা সেখানে বসতে বা আশ্রয় নিতে পারেন না। বিশেষ করে বৃষ্টি ও তীব্র রোদে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে যাত্রী ছাউনিটি দখলমুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সিএনজি অটোরিকশা, অটোগাড়ি, মোটরসাইকেল এবং পথচারীদের একসঙ্গে চলাচলের ফলে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনের ফাঁক দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গুরকচি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর বাজার কমিটি না থাকায় শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। বাজার পরিচালনার জন্য দায়িত্বশীল কোনো কমিটি না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দোকানের চালা সম্প্রসারণ করে জায়গা দখল করে নিয়েছেন। ফলে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে সড়ক এবং সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী যানজট।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজার কমিটির অনুপস্থিতিতে কেউ নিয়ম-শৃঙ্খলা মানতে বাধ্য হচ্ছে না। অবৈধ দখল, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং ফুটপাত ও রাস্তার জায়গা দখলের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, সরকারি অর্থে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি জনগণের সুবিধার্থে তৈরি করা হলেও বর্তমানে এটি কিছু ব্যবসায়ীর দখলে চলে গেছে। অথচ এই ছাউনিটি দখলমুক্ত থাকলে সাধারণ মানুষ রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিরাপদে বসতে, বিশ্রাম নিতে এবং যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে পারতেন।
এলাকাবাসী অবিলম্বে যাত্রী ছাউনির সামনে ও আশপাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, ছাউনির ভেতরে রাখা মালামাল অপসারণ, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং বন্ধ, সড়কের দুই পাশের অবৈধ চালা সরিয়ে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা এবং বাজার পরিচালনার জন্য একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে , এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, জনগণের টাকায় নির্মিত যাত্রী ছাউনি কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার হতে পারে না। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাত্রী ছাউনিটি দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষ, পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
স্থানীয়দের ভাষায়, যাত্রী ছাউনি জনগণের সম্পদ; এটি জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে। জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে গুরকচি বাজারের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।