সমীর উদ্দিনের মা আছিয়া বেগম জানান, সমীর জন্মের পর থেকে এমন। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। ওর বয়স ৩২ বছর হলেও সে কিছু বোঝে না। সংসার বিয়েসাদী আত্মীয় স্বজন কোন কিছু বোঝে না। সারাদিন ছোট ছেলে মেয়ের সাথে খেলাধুলা করে। রাগ উঠলে ছোট মানুষের মত আচরণ করে। অনেক চিকিৎসা করেও কোন ফল পাই নাই। আমরা মরে গেলে ওর জীবন কেমনে চলবে আল্লাহ জানে।
সমীরের খেলার সাথী আশিক, মাসুম, সিনথিয়া এবং শিউলি বলেন- সমীর আমাদের চাচ্চু হয়। আগে বড় ভাইদের সাথে খেলাধুলা করত। এখন আমরা তার সাথে খেলাধুলা করি, দৌড়াদৌড়ি, মেলা বাড়ি যাই, বউ বউ খেলাই। আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। কোন সমস্যা হয় না।
সমীরের প্রতিবেশী আকবর আলী বলেন, সমীরের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন থেকে দেখি সমীরের শরীরে কোন পরিবর্তন নেই। ওর ছোট ভাই বিয়েসাদী করে কর্মজীবন শুরু করছেন। সমীরের তো কিছু হলো না। তার বাবা মা গরীব। একটা ঘরের মধ্যে বাবা মা সবাইকে নিয়ে থাকেন। গ্রামের মানুষ আমরা যতটা পারি সাহায্য করি সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা করলে হয়তো সমীর ভালো থাকতে পারবে।
কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন এস এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি মূলত খর্বাকৃতির বাচ্চা। যাকে স্ট্যান্ডিং বেবি বলা হয়। মূলত পুষ্টির অভাবের কারণে জন্মগতভাবে এমন সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে যদি আমরা সন্তানটির সঠিক চিকিৎসা করতে পারি তাহলে কিছুটা পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুর সঠিক পরিচর্যা, আয়োডিনযুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হলে খর্বাকৃতি বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।